পথহাঁটা

__জীবনানন্দ দাশ কী এক ইশারা যেন মনে রেখে একা একা শহরের পথ থেকে পথেঅনেক হেঁটেছি আমি; অনেক দেখেছি আমি ট্রাম-বাস সব ঠিক চলে;তারপর পথ ছেড়ে শান্ত হয়ে চলে যায় তাহাদের ঘুমের জগতে: সারারাত গ্যাস লাইট আপনার কাজ বুঝে ভালো করে…

অঘ্রান প্রান্তরে

__জীবনানন্দ দাশ ‘জানি আমি তোমার দু’চোখ আজ আমাকে খোঁজে নাআর পৃথিবীর’ পরে-’বলে চুপে থামলাম, কেবলি অশত্থ পাতা পড়ে আছে ঘাসের ভিতরেশুকনো মিয়োনো ছেঁড়া;- অঘ্রান এসেছে আজ পৃথিবীর বনে;সে সবের ঢের আগে আমাদের দুজনের মনেহেমন্ত এসেছে তবু; বললে সে, ‘ঘাসের ওপরে…

সুচেতনা

__জীবনানন্দ দাশ সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপবিকেলের নক্ষত্রের কাছে;সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকেনির্জনতা আছে।এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতাসত্য; তবু শেষ সত্য নয়।কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে;তবুও তোমার কাছে আমার হৃদয়। আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রের ঘুরে প্রাণপৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতোভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু,দেখেছি…

সবিতা

__জীবনানন্দ দাশ সবিতা, মানুষজন্ম আমরা পেয়েছিমনে হয় কোনো এক বসন্তের রাতে:ভূমধ্যসাগর ঘিরে সেই সব জাতি,তাহাদের সাথেসিন্ধুর আঁধার পথে করেছি গুঞ্জন;মনে পড়ে নিবিড় মেরুন আলো, মুক্তার শিকারী,রেশম, মদের সার্থবাহ,দুধের মতন শাদা নারী। অন্তত রৌদ্রের থেকে তারাশাশ্বত রাত্রির দিকে তবেসহসা বিকেলবেলা শেষ…

সুরঞ্জনা

– জীবনানন্দ দাশ সুরঞ্জনা, আজো তুমি আমাদের পৃথিবীতে আছ;পৃথিবীর বয়সিনী তুমি এক মেয়ের মতন;কালো চোখ মেলে ওই নীলিমা দেখেছ;গ্রীক হিন্দু ফিনিশিয় নিয়মের রূঢ় আয়োজনশুনেছ ফেনিল শব্দে তিলোত্তমা-নগরীরর গায়ে কী চেয়েছে? কী পেয়েছে ?— গিয়েছে হারায়ে।বয়স বেড়েছে ঢের নরনারীদের,ঈষৎ নিভেছে সূর্য…

হাজার বছর শুধু খেলা করে

__জীবনানন্দ দাশ হাজার বছর শুধু খেলা করে অন্ধকারে জোনাকির মতো;চারিদিকে চিরদিন রাত্রির নিধান;বালির উপরে জ্যোৎস্না — দেবদারু ছায়া ইতস্ততবিচূর্ণ থামের মতো: দ্বারকার; — দাঁড়ায়ে রয়েছে নত, ম্লান।শরীরে ঘুমের ঘ্রাণ আমাদের ঘুচে — গেছে জীবনের সব লেনদেন; ‘মনে আছে?’ শুধালো সে…

শিরীষের ডালপালা

__জীবনানন্দ দাশ শিরীষের ডালপালা লেগে আছে বিকেলের মেঘে,পিপুলের ভরা বুকে চিল নেমে এসেছে এখন;বিকেলের শিশুসুর্যকে ঘিরে মায়ের আবেগেকরুণ হয়েছে ঝাউবন। নদীর উজ্জ্বল জল কোরালের মতো কলবরেভেসে নারকোলবনে কেড়ে নেয় কোরালীর ভ্রূণ;বিকেল বলেছে এই নদীটিকে: ‘শান্ত হতে হবে–’অকূল সুপুরিবন স্থির জলে…

ধান কাটা হয়ে গেছে

__জীবনানন্দ দাশ ধান কাটা হয়ে গেছে কবে যেন — ক্ষেত মাঠে পড়ে আছে খড়পাতা কুটো ভাঙা ডিম — সাপের খোলস নীড় শীত।এই সব উৎরায়ে ওইখানে মাঠের ভিতরঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজ — কেমন নিবিড়। ওইখানে একজন শুয়ে আছে — দিনরাত…

তুমি

__জীবনানন্দ দাশ নক্ষত্রের চলাফেরা ইশারায় চারিদিকে উজ্জ্বল আকাশ;বাতাসে নীলাভ হয়ে আসে যেন প্রান্তরের ঘাস;কাঁচপোকা ঘুমিয়েছে — গঙ্গাফড়িং সে-ও ঘুমে;আম নিম হিজলের ব্যাপ্তিতে পড়ে আছ তুমি। ‘মাটির অনেক নীচে চলে গেছ? কিংবা দূর আকাশের পারেতুমি আজ? কোন্ কথা ভাবছ আধারে?ওই যে…

স্বপ্নের ধ্বনিরা

__জীবনানন্দ দাশ স্বপ্নের ধ্বনিরা এসে বলে যায়: স্থবিরতা সব চেয়ে ভালো;নিস্তব্ধ শীতের রাতে দীপ জ্বেলেঅথবা নিভায়ে দীপ বিছানায় শুয়েস্থবিরের চোখে যেন জমে ওঠে অন্য কোন বিকেলের আলো। সেই আলো চিরদিন হয়ে থাকে স্থির,সব ছেড়ে একদিন আমিও স্থবিরহয়ে যাব; সেদিন শীতের…

দুজন

__জীবনানন্দ দাশ ‘আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন-কতদিন আমিও তোমাকেখুঁজি নাকো;- এক নক্ষত্রের নিচে তবু-একই আলোপৃথিবীর পারেআমরা দুজনে আছি; পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়,প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়,হয় নাকি?’- বলে সে তাকাল তার সঙ্গিনীর দিকে;আজ…

অন্ধকার

__জীবনানন্দ দাশ গভীর অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর চ্ছল চ্ছল শব্দে জেগে উঠলাম আবার;তাকিয়ে দেখলাম পান্ডুর চাঁদ বৈতরণীর থেকে তার অর্ধেক ছায়াগুটিয়ে নিয়েছে যেনকীর্তিনাশার দিকে। ধারসিড়ি নদীর কিনারে আমি শুয়েছিলাম- পউষের রাতে-কোনোদিন আর জাগব না জেনেকোনোদিন জাগব না আমি- কোনোদিন জাগব…

সুদর্শনা

__জীবনানন্দ দাশ একদিন ম্লান হেসে আমিতোমার মতন এক মহিলার কাছেযুগের সঞ্চিত পণ্যে লীন হতে গিয়েঅগ্নিপরিধির মাঝে সহসা দাঁড়িয়েশুনেছি কিন্নরকন্ঠ দেবদারু গাছে,দেখেছ অমৃতসূর্য আছে। সবচেয়ে আকাশ নক্ষত্র ঘাস চন্দ্রমল্লিকার রাত্রি ভালো;তবুও সময় স্থির নয়,আরেক গভীরতর শেষ রূপ চেয়েদেখেছে সে তোমার বলয়।…

শিকার

__জীবনানন্দ দাশ ভোর;আকাশের রং ঘাসফড়িঙের দেহের মতো কোমল নীল:চারিদিকে পেয়ারা ও নোনার গাছ টিয়ার পালকের মতো সবুজ।একটি তারা এখনো আকাশে রয়েছে :পাড়াগাঁর বাসরঘরে সবচেয়ে গোধূলি-মদির মেয়েটির মতো;কিংবা মিশরের মানুষী তার বুকের থেকে যে মুক্তাআমার নীল মদের গেলাসে রেখেছিলহাজার হাজার বছর…

নগ্ন নির্জন হাত

__জীবনানন্দ দাশ আবার আকাশে অন্ধকার ঘন হয়ে উঠেছে:আলোর রহস্যময়ী সহোদরার মতো এই অন্ধকার। যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছেঅথচ যার মুখ আমি কোনাদিন দেখিনি,সেই নারীর মতোফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়ে উঠেছে। মনে হয় কোনো বিলুপ্ত নগরীর কথাসেই নগরীর এক ধুসর প্রাসাদের রূপ…

শঙ্খমালা

__জীবনানন্দ দাশ কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারেসে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,বলিল, তোমারে চাই:বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখখুঁজেছি নক্ষত্রে আমি- কুয়াশার পাখনায়- সন্ধ্যার নদীর জলে নামে যে আলোকজোনাকির দেহ হতে-খুজেছি তোমারে সেইখানে-ধূসর পেচার মতো ডানা মেলে…

বুনো হাঁস

__জীবনানন্দ দাশ পেঁচার ধূসর পাখা উড়ে যায় নক্ষত্রের পানে-জলা মাঠ ছেড়ে দিয়ে চাঁদের আহবানে বুনো হাঁস পাখা মেলে- শাঁই শাঁই শব্দ শুনি তার;এক-দুই-তিন- চার-অজস্র-অপার-রাত্রির কিনার দিয়ে তাহাদের ক্ষিপ্র ডানা ঝাড়াএঞ্জিনের মতো শব্দে; ছুটিতেছে-ছুটিতেছে তারা। তারপর পড়ে থাকে, নক্ষত্রের বিশাল আকাশ,হাঁসের…

হায় চিল

__জীবনানন্দ দাশ হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরেতুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে উড়ে ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে!তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে!পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;আবার তাহারে…

ঘাস

__জীবনানন্দ দাশ কচি লেবুপাতার মতো নরম সবুজ আলোয়পৃথিবী ভরে গিয়েছে এই ভোরের বেলা;কাঁচা বাতাবির মতো সবুজ ঘাস- তেমনি সুঘ্রাণ –হরিনেরা দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে নিচ্ছে !আমারো ইচ্ছা করে এই ঘাসের এই ঘ্রাণ হরিৎ মদের মতোগেলাসে গেলাসে পান করি,এই ঘাসের শরীর ছানি-…

আমি যদি হতাম

– জীবনানন্দ দাশ আমি যদি হতাম বনহংস,বনহংসী হতে যদি তুমি;কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারেধানক্ষেতের কাছেছিপছিপে শরের ভিতরএক নিরালা নীড়ে; তাহলে আজ এই ফাল্পুনের রাতেঝাউয়ের শাখার পেছনে চাঁদ উঠতে দেখেআমরা নিম্নভূমির জলের গন্ধ ছেড়েআকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম-তোমার…

হাওয়ার রাত

__জীবনানন্দ দাশ গভীর হাওয়ার রাত ছিল কাল-অসংখ্য নক্ষত্রের রাত ;সারা রাত বির্স্তীর্ণ হাওয়া আমার মশারিতে খেলেছে;মশারিটা ফুলে উঠেছে কখনো মৌসুমী সমুদ্রের পেটের মতো,কখনো বিছানা ছিঁড়েনক্ষত্রের দিকে উড়ে যেতে চেয়েছে,এক-একবার মনে হচ্ছিল আমার-আধো ঘুমের ভিতর হয়তো-মাথার উপরে মশারি নেই আমারস্বাতী তারার…

কুড়ি বছর পরে

– জীবনানন্দ দাশ আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি!আবার বছর কুড়ি পরে-হয়তো ধানের ছড়ার পাশেকার্তিকের মাসে-তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে-তখন হলুদ নদীনরম নরম হয় শর কাশ হোগলায়-মাঠের ভিতরে! অথবা নাইকো ধান ক্ষেতে আর,ব্যস্ততা নাইকো আর,হাঁসের নীড়ের থেকে…

বনলতা সেন

– জীবনানন্দ দাশ বনলতা সেন ( Bonolota Sen ) বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা।  যার লেখক বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে জনপ্রিয় আধুনিক বাঙালি কবি  জীবনানন্দ দাশ। বনলতা সেন কবিতাটি (Banalata Sen) ১ম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে ডিসেম্বর মাসে কবি বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায়। বনলতা সেন কবিতা টি সর্বকালের সবচেয়ে…

সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়

__জীবনানন্দ দাশ চোখ দুটো ঘুমে ভরেঝরা ফসলের গান বুকে নিয়ে আজ ফিরে যাই ঘরে!ফুরায়ে গিয়েছে যা ছিল গোপন,- স্বপন ক’দিন রয়!এসেছে গোধূলি গোলাপিবরণ,-এ তবু গোধূলি নয়!সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়,আমাদের মুখ সারাটি রাত্রি মাটির বুকের’পরে! কেটেছে যে নিশি…

স্মৃতি

__জীবনানন্দ দাশ থমথমে রাত,- আমার পাশে বসল অতিথি,-বললে,- আমি অতীত ক্ষুধা,-তোমার অতীত স্মৃতি!-যে দিনগুলো সাঙ্গ হ’ল ঝড়বাদলের জলে,শুষে গেল মেরুর হিমে,- মরুর অনলে,ছায়ার মতো মিশেছিলাম আমি তাদের সনে;তারা কোথায়?-বন্দি স্মৃতিই কাঁদছে তোমার মনে!কাঁদছে তোমার মনের খাকে,- চাপা ছাইয়ের তলে,কাঁদছে তোমার…

যে কামনা নিয়ে

__জীবনানন্দ দাশ যে কামনা নিয়ে মধুমাছি ফেরে বুকে মোর সেই তৃষা!খুঁজে মরি রূপ, ছায়াধূপ জুড়ি,রঙের মাঝারে হেরি রঙডুবি!পরাগের ঠোঁটে পরিমল-গুঁড়ি,-হারায়ে ফেলি গো দিশা!আমি প্রজাপতি-মিঠা মাঠে মাঠে সোঁদালে সর্ষেক্ষেতে;-রোদের সফরে খুঁজি নাকো ঘর,বাঁধি নাকো বাসা-কাঁপি থরথর।অতসী ছুঁড়ির ঠোঁটের উপরশুঁড়ির গেলাসে মেতে!…

হিন্দু-মুসলমান

__জীবনানন্দ দাশ মহামৈত্রীর বরদ-তীর্থে-পুণ্য ভারতপুরেপূজার ঘন্টা মিশিছে হরষে নমাজের সুরে সুরে!আহ্নিক হেথা শুরু হয়ে যায় আজান বেলার মাঝে,মুয়াজ্জেনের উদাস ধ্বনিটি গগনে গগনে বাজে,জপে ঈদগাতে তসবি ফকির, পূজারী মন্ত্র পড়ে,সন্ধ্যা-উষার বেদবাণী যায় মিশে কোরানের স্বরে;সন্ন্যাসী আর পীরমিলে গেছে হেথা,-মিশে গেছে হেথা…

দেশবন্ধু

__জীবনানন্দ দাশ বাংলার অঙ্গনেতে বাজায়েছ নটেশের রঙ্গমল্লী গাঁথাঅশান্ত সন্তান ওগো,- বিপ্লবিনী পদ্মা ছিল তব নদী-মাতা।কালবৈশাখীর দোলা অনিবার দুলাইতে রক্তপুঞ্জ তবউত্তাল ঊর্মির তালে,-বক্ষে তবু লক্ষ কোটি পন্নগ-উৎসবউদ্যত ফণার নৃত্যে আষ্ফালিত ধূর্জটির কন্ঠ-নাগ জিনি,ত্র্যম্বক-পিনাকে তব শঙ্কাকুল ছিল সদা শত্রু অক্ষৌহিণী।স্পর্শে তব পুরোহিত,…

কবি

__জীবনানন্দ দাশ ভ্রমরীর মতো চুপে সৃজনের ছায়াধূপে ঘুরে মরে মনআমি নিদালির আঁখি, নেশাখোর চোখের স্বপন!নিরালায় সুর সাধি,- বাঁধি মোর মানসীর বেণী,মানুষ দেখেনি মোরে কোনোদিন,- আমারে চেনেনি! কোনো ভিড় কোনোদিন দাঁড়ায়নি মোর চারিপাশে,-শুধায়নি কেহ কভু-‘আসে কি রে,- সে কি আসে-আসে!’আসেনি সে…

ছায়া-প্রিয়া

__জীবনানন্দ দাশ দুপুররাতে ও কার আওয়াজ!গান কে গাহে,- গান না!কপোত-বধূ ঘুমিয়ে আছেনিঝুম ঝিঁঝির বুকের কাছে;অস্তচাঁদের আলোর তলেএ কার তবে কান্না!গান কে গাহে,- গান না! শার্শি ঘরের উঠছে বেজে,উঠছে কেঁপে পর্দা!বাতাস আজি ঘুমিয়ে আছেজল-ডাহুরের বুকের কাছে;এ কোন্‌ বাঁশি শার্শি বাজায়এ কোন…

Posts navigation