লেখক জীবন

সৈয়দ ইমাম ৮ অক্টোবর ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তর্গত নৈসর্গিক কাপ্তাই লেকের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহর রাঙামাটির বেতবুনিয়াতে জন্ম। তাঁর শৈশব-কৈশোর মিশে আছে সবুজ পাহাড়ে আবৃত বেতবুনিয়ায়। বাবা: সৈয়দ আরিফ এবং মাতা: রাবেয়া খাতুন। পেশাগত জীবনের শুরু শিক্ষকতার মত মহান কর্মের মাধ্যমে। প্রথমে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হন; পূর্ব বেতবুনিয়া মডেল জুনিয়র হাই স্কুলে এবং পরবর্তীতে সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাঁচ বছর শিক্ষকতা শেষে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে বর্তমানে প্রবাসে কর্মরত।

প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এক বছররের ব্যবধানে তিনি তাঁর পিতা-মাতা উভয়কে হারান। তাঁর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যদি উল্লেখ করি; তিনি বরাবরই একজন স্বাধীনচেতা এবং প্রতিবাদী মানুষ। পাশাপাশি বন্ধুমহল ও সমাজে তাঁর আন্তরিক সৌহার্দপূর্ণ আচরণ সকলের কাছে তাঁকে প্রিয় করে তোলে। তাঁর শখের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা (বিশেষকরে ক্রিকেট), গান শোনা, ঘুরতে যাওয়া, অভিনয় করা, বই পড়া ইত্যাদি।

লেখালেখির পাশাপাশি গান ও কবিতা আবৃত্তিকে কবি তাঁর হৃদয় থেকে ধারণ করেন। এক্ষেত্রে একটু বলে রাখা ভালো; তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বনামধন্য শিল্পী না হলেও- লেখালেখির আগে থেকেই একজন কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে নিজ জেলা রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে বহুল পরিচিত। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ফোরাম আয়োজিত মঞ্চ নাটকে একাধিকবার অভিনয়ও করেন তিনি। সাহিত্যগ্রুপ ও অনলাইন জগতে আবৃত্তিকার হিসেবেও তাঁর পরিচয় রয়েছে সকলের কাছে।

কবিতা ও কাব্যগ্রন্থ প্রসঙ্গে:
সৈয়দ ইমাম তরুণ প্রজন্মের কবি। তাঁর কবিতায় জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা এসেছে তুমুলভাবে। সমাজের অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ শাণিত। কখনও প্রেম কখনও ভালোবাসায়, কখনও প্রহসন ও বঞ্চনায় তাঁর কবিতায় দ্রোহের প্রকাশ সাবলীল। বিরহের প্রতি তাঁর আছে প্রগাঢ় মমতা। তরুণদের প্রতি প্রেরণার অচ্যুত আহ্বানে জোগান দিতে চেষ্টা করেন নিরেট সাহস ও প্রেরণা। তিনি সর্বদা তাঁর কবিতায় ভাষার প্রাঞ্জলতায় জীবনের দর্শনকে ধারণ করেন। তাঁর ভেতরের দহন পাঠকমনকে ভাবতে শেখায়। কবিতা তো তাই, যা আমাদের চিন্তার জগতকে প্রসারিত করে। কল্পনাকে প্রশ্রয় দিয়ে সুগম পথ তৈরি করে স্বল্প শব্দে বিস্তৃত গভীর তুলে ধরবে কবিতা- যেন শামুকের খোলসে সমুদ্রের গর্জন শোনার মত।

কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ; “তারুণ্য এক দ্রোহের দহন” প্রকাশিত হয় ২০২০ খ্রিস্টাব্দে এবং দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “ভুল আকাশের ঘুড়ি” প্রকাশিত হয়েছে ২০২১ খ্রিস্টাব্দে।

পরিশেষে লেখকের বক্তব্য:

প্রহসন প্রহেলিকায় কুহেলিকাবৃত সঙ্গোপন লালসার দুয়ারে একটা বোধের পাখি আহত। রক্তাক্ত হৃৎপিণ্ডের নাসিকাপথে কিছু বিষ শাশ্বত! বিনিময় শর্ত বিনিয়োগে কলমের সত্য মানদণ্ডে দণ্ডিত- কালের কাঠগড়ায় মাথা ঝুঁকে আছে। লেজুড়বৃত্তিক সংস্পর্শে যখন সস্তায় নিজেকে খাস্তা করে দেয় মানুষ; আমি আমার বোধের নদীর নাব্যতা বাথরুমে ফ্লাশ করে না দিয়ে- তুলে নিয়েছি হাতে একটি কলম ও কিছু কাগজের পাতা।
ভাবের ঔরসজাত সন্তান- অনঘ শব্দরা পিতৃহীন, কোনওটা পরাধীন কোনওটা বাজেয়াপ্ত।
বৈরাগ্য মোহ ইয়ত্তাহীন যাচে অনুরাগ যত্রতত্র — এখানে তৈলাক্ত উৎসবে দলবেঁধে নামে জ্ঞানের ধর্ষকেরা!
ভাবলেশহীন নৈতিকতা মরতে মরতে ঝুলে থাকে আড়মোড়া অলস ভাবনার লেজুড় কামড়ে যখন;
আর উপায় নেই! চারিপাশ আমার মিথ্যের বেসাতি!
সাহিত্যকে পুঞ্জীভূত করে নীল ভালোবাসা ও কলঙ্কের ছাপ লেপ্টে দিতে যখন একটি কুরুচিপূর্ণ অংশ মরিয়া হয়ে আছে;
তখন নির্লিপ্ততা হত্যা করে লিখতে বসেছি সত্যের স্ফটিককে।
কখনও বিশিষ্টজনের আনুগত্যের জন্য কিংবা বহুল জনপ্রিয়তার লালসায় আমার কলম চলেনি, বরং হিংসাকে স্বাদরে গ্রহণ করেছি দু’টো বাক্য উচিৎ বলার বিনিময়ে। সবাই প্রার্থনা ও ভালোবাসায় রাখবেন আমায়– যেন কখনও মাথা না ঝুঁকিয়ে আমার গন্তব্যে অটল থেকে জীবন ও বাস্তবতার আয়না তুলে ধরতে পারি। যেন ভালোবাসতে পারি ও ভালোবাসাতে পারি মানুষে-মানুষে।
আজ আমার কিছু দুর্বল বিশ্বাসকে স্বয়ংক্রিয় হতে দেখছি, প্রিয় অচিনপুর এক্সপ্রেসের লেখক পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট পেজ তৈরীর স্বেচ্ছাসেবামূলক মহান এই কার্যক্রমকে দেখে। তারা সত্যিই প্রসংশার দাবিদার। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে লেখকদের একটি অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরির পাশাপাশি, সাহিত্যকে সমৃদ্ধ ও সুপ্রসন্ন করতে এই কাজ ও চিন্তাধারা একটি অনন্য অবদান রাখতে চলেছে।
অচিনপুর এক্সপ্রেস ও তার সকল সঞ্চালক মণ্ডলীর নিকট কৃতজ্ঞতা ও সতত ভালোবাসা রেখে গেলাম।

সৈয়দ ইমাম
১২-০২-২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Please visit...