লেখিকা দিলু রোকিবা

জন্মস্থান: করটিয়া, টাঙ্গাইল
জন্ম তারিখ: ৬ই সেপ্টেম্বর

লেখক জীবন

লেখিকা দিলু রোকিবা ৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ সালে টাঙ্গাইল জেলায় করটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মৌলভী নওশের আলী এবং মাতা সৈয়দা হাসিনা হেনার আট সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সন্তান তিনি। বর্তমানে তিনি তার একমাত্র পুত্র সন্তান-আহমেদ বিন আনোয়ার মিথুন, বৌমা-খুরশিদা আক্তার বানু খুশি, একমাত্র নাতি-আয়ান আহনাফ শ্রেষ্ঠ ও একমাত্র নাতনি-নাজিফা তাবাসসুম শ্রেয়াকে নিয়ে মিরপুর সাংবাদিক আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। এদেরকে নিয়েই সময় জীবনযাপন। উনার কাছে সবার আগে এই পরিবার। তিনি ছিলেন মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক, ঢাকা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষক, প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী। কর্মজীবনে তার সুনামের ধ্বনি দিকে দিকে ছড়িয়ে পরে।

ছোট বেলা থেকেই তিনি লেখালেখির সাথে জড়িত। পারিবারিক সূত্রে বড়ভাই কবি, ছড়াকার, সাহিত্য সম্পাদক, আবু হাসানের তাকে তালিম দেন। তিনি বিভিন্ন স্কুল, কলেজের স্বাধীনতা উত্তর দেয়াল পত্রিকা, লিটল ম্যাগাজিন ইত্যাদি সম্পাদনা করেছেন। লেখাপড়া চলাকালীন সময়ে তাঁর স্বামী বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট জনাব শামসুল আনোয়ার মানিকের অকৃত্রিম সহযোগিতা, উৎসাহ আর প্রেরণাতেই তার সাহিত্যের জগতে প্রবেশের পথ উন্মোচন হয়। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে তার সাহিত্যে বিস্তৃতি আর পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর একত্রে বেতার ও টিভিতে কাব্য সাহিত্য অঙ্গনের চর্চা আরো শানিত হয়। এ যাবত দৈনিক পত্রিকা দেশ-বিদেশে অসংখ্য লেখা, গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, অফটপিকস, কবিতা, বিশেষ দিনের ফিচার অদ্যাবধি প্রকাশ আর তার ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত।

এ যাবত সময়ে তিনি বহু পুরস্কার পদক প্রাপ্ত হন। তাঁর মধ্যে বিরল সম্মান অর্জন শিক্ষকতার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহাত্মা গান্ধীর পুরস্কার প্রাপ্ত। তিনি এ যাবত বহুমাত্রিক লেখক, কবি ও সংগঠক হিসেবে সম্মাননা ও পদক পেয়েছেন। তিনি একজন সমাজ সেবক। সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। আর সুইডের(রমনা শাখার) জাতীয় কাউন্সিলার। তিনি নিরাপদ সড়ক চাই এর একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা আকাশের সহ প্রকাশনা সম্পাদক। তিনি একাত্তরে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মটিভেটর ছিলেন ১১ নং সেক্টরের। বর্তমানে জাতীয় কবি পরিষদের লেখিকা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ও পরামর্শক।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একক কাব্য গ্রন্থ, লিটল ম্যাগাজিন সব আগুনে পুড়ে যায়। যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রায় পঁচিশটির মতো। এবার ছোট গল্প শত নক্ষত্রের গল্পে একুশে মেলায় বের হবে। কবিতাই কবির আরাধ্য। তাঁর মতে কবি ও কবিতার আগে ভালো মনের মানুষ হতে হবে। “কবিতা হচ্ছে শুদ্ধতায় জীয়ন কাঠি আর দিন বদলের হাতিয়ার”।

পরিশেষে লেখিকার বক্তব্য:

আসসালাম আলায়কুম। আমি দিলু রোকিবা, অচিনপুর এক্সপ্রেসে অনলাইন সাহিত্য গ্রুপের সাথে সূচনা লগ্ন থেকেই পাশে আছি। অনলাইন সাহিত্যের মৌলিক ধাঁচ ও চর্চার মাধ্যমে মূলতঃ একজন সৃজনশীল লেখক তৈরী ও তাদেরকে উৎসাহে উদ্বুদ্ধ করে প্রেরণাস্বরূপ অচিনপুর এক্সপ্রেস সময়ের দাবীতে যথাযথ ভূমিকা রাখার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

লেখক পোর্টফোলিও পেজ এর গতিশীল কার্যকলাপ এগিয়ে চলার পথ হোক কুসুমাস্তির্ণ। এর মাধ্যমে লেখকদের জন্য নিঃসন্দেহে ভালো প্রয়াস ও একটি অনলাইন প্লাটফর্ম সৃজন হোক। আমি অচিনপুর এক্সপ্রেসের সর্বাঙ্গীন ও উত্তরোত্তর মঙল সফলতা কামনা করছি। আমি আশাবাদী একদিন এই অচিনপুর এক্সপ্রেস এর ভেঁপুতে বেহাগের সুরের মূর্ছনাতে এভারেস্ট জয় থেকে যেন সাহিত্যের বুকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। আমার শুভকামনা আর দোয়া রইলো।

সাহিত্য আর কবিতা হচ্ছে শুদ্ধতায় জীয়ন কাঠি আর দিন বদলের হাতিয়ার। এই সুস্থ রুচিশীল, মননশীল ভাবনার আদলে যেন এই কাব্যের সমুদ্রে অবগাহন করে থৈ থৈ থৈ দিঘীর ওপর ঝমঝম বৃষ্টির জলে ধুয়ে ভবিষ্যতে নব প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাতে সচেষ্ট থাকতে পেরে শেষ পড়ন্ত বিকেলের স্নিগ্ধময় জ্যোৎস্নার মৌ বিভাবরী হতে পারি। অচিনপুর এক্সপ্রেসের সম্মানিত সম্পাদক, সহ-সম্পাদক ও সকল কলাকুশলীদের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা আর কৃতজ্ঞতা ও শুভাশিষ রইলো।

দিলু রোকিবা
১১-০২-২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Please visit...