সন্তান মানুষ করা প্রসঙ্গে (পর্ব-এক)

নাজমুন লীনা
মাহিগন্জ, রংপুর।

 প্রবন্ধঃ সন্তান মানুষ করা প্রসঙ্গে (পর্ব-এক)

কোন্ মা-বাবা চান না তাঁদের সন্তান সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে বুদ্ধিমান, সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে উদার ও সবচেয়ে সাহসী হয়ে গড়ে উঠুক। কোন্ মা-বাবা আশা করেন না যে লোক তাঁদের সন্তানদের শ্রমশীলতা আর কর্মের জন্য শ্রদ্ধা করুক?

এই শিক্ষাদীক্ষা হলো সেই জটিল ও বহুমুখী প্রক্রিয়া, যাতে মা-বাবার সাথে অংশগ্রহণ করেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা, স্কুলে ও রাস্তাঘাটে শিশুদের চারপাশের লোকেরা।তবে ছেলেমেয়ে মানুষ করার ব্যাপারে প্রধান ভূমিকাটি হচ্ছে মা-বাবাদের।

মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের জন্য কামনা করেন সুখের শৈশব। এই সুখের শৈশব বলতে আমরা কি বুঝি? আমরা সন্তানদের সুন্দর সুন্দর পোশাক পরাই, দামী খেলনা দেই, তাদের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্হা করি, তাদের হাসিখুশি প্রাণোচ্ছ্বল দেখি। এই সবই ভালো, তবে এ হচ্ছে সুখের অতি ক্ষুদ্র একটা অংশ মাত্র।

মানুষ গড়া- এ হচ্ছে বহুমুখী এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার দুটি দিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনুভূতি আর হৃদয় গড়ে তোলা এবং বুদ্ধির উন্মেষ ঘটানো।

সন্তানের জন্য পিতা-মাতার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারের মধ্যে সবচেয়ে সেরা কোনটি? টাকা-পয়সা ও ধনসম্পদ? না, মোটেই না। টাকা-পয়সা উত্তরাধিকারীদের নষ্ট করে ছাড়ে। তাহলে হয়তো শিক্ষা? হ্যাঁ এবং না। হ্যাঁ-যদি শিক্ষা শ্রমশীলতা গড়ে তুলে। না-যদি তা শ্রমশীলতা না গড়ে। সন্তানদের মধ্যে অসীম শ্রমশীলতা গড়া- এই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার। এবং তা উত্তরাধিকারীদের সুখের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্তও বটে।

আমি খুব ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পছন্দ করি এবং জানি না কেন জানি অনেক শিশুই আমাকে “মা” ডাকত এবং এখনও ডাকে। আমি প্রথম যে শিশুকে নিজের তত্ত্বাবধানে রাখি সে আমার ছোট ভাই এবং তখন আমার বয়স ১০ বছরও হয়নি।এবং প্রথম “মা ” ডাক শুনি ১১ বছর বয়সে আমার ভাগ্নার মুখে।এখনও সে আমায় মা ডাকে।

আমি সন্তান লালনপালনের ক্ষেত্রে কোনো গবেষণা বা প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স করিনি যা করেছি নিজের করে বেশ কিছু শিশুকে আর তাদের বাবা-মাদের প্রতি দৃষ্টিপাত এবং এর প্রতিক্রিয়া। বলতে পারেন প্রাকটিক্যালি দেখে শেখা। সেই ক্ষুদ্র দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি নিজে যা করি বা করে এসেছি এবং এর ফলাফল আপনাদের সাথে ভাগ করে নেব ধারাবহিক ভাবে।

শিশু হলো সেই জমি যেখানে সমাজ মানবীয় গুনাবলীর বীজ বপন করে। আমাদের মধ্যে প্রকৃত মানবিক যা কিছু আছে তা আপনাতেই আসে না, আয়ত্ব করতে হয় এবং এই আয়ত্বকারীর সবচেয়ে বড় সহযোগী হলেন সন্তানের মা-বাবা।

সন্তানকে মানুষ করার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব মা-বাবার। একটা কথা মনে রাখবেন প্রিয় পাঠক সন্তানের ভুল ক্ষমার যোগ্য কিন্তু মা-বাবা হিসেবে ভুল শব্দটি সংখ্যায় যত কম হবে আপনারা ততবেশি যোগ্য হবেন।

সব মা-বাবা সন্তান মানুষ করণে স্বার্থক হোন।

চলবে…

অচিনপুর ডেস্ক/ জেড. কে. নিপা

Post navigation