সাংবাদিক, লেখক ও কবি মিজানুর রহমান তোতা

জন্মস্থান: চরমুরারীদহ , ঝিনাইদহ
জন্ম তারিখ: ৩০শে ডিসেম্বর

লেখক জীবন

সাংবাদিক, লেখক ও কবি মিজানুর রহমান তোতা ১৯৫৭ সালের ৩০শে ডিসেম্বর ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের পাশে চরমুরারীদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৮০র দশক থেকেই তিনি যশোরে স্থায়ী বসিন্দা। যশোরে বাড়ি শহরের নতুন খয়েরতলা ভাস্কর্য মোড়।

তিনি এক ছেলে (শাহেদ রহমান রমি), দুই জমজ মেয়ের (মিথিলা রহমান লতা ও মিশিলা রহমান পাতা) গর্বিত পিতা। আর এখন তার তিন ছেলে মেয়ের ঘরে তিন নাতি-নাতনি। তারা হলো- মহারাণী শাফা রহমান, রাজরাণী আনাবিয়া রামিশা ও মহারাজা মিনহাজ রাহীন।

তার সহধর্মিণী রেবা রহমানও ছিলেন একজন বলিষ্ঠ সাংবাদিক। পেশাগত জীবনে সহধর্মিণী সাংবাদিক রেবা রহমানের সাথে একত্রে কাজ করা থেকে তারা কবিতা লিখতে উৎসাহিত হওয়া। সহধর্মিণীর বিয়োগান্তক ঘটনার পর সাহিত্য চর্চা বহুগুণে বেড়ে যায়। অসংখ্য ফেমাস কবিতা তাকে প্রতিষ্ঠিত কবি করে তুলেছে। ৪৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের পড়ন্ত বেলায় সাহিত্য চর্চা তাকে টেনে নিয়ে যায় ভাবনার অতলান্তে।

তিনি কলেজ জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। ঝিনাইদহ কেসি কলেজে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কবিতা লিখেছেন, আর স্কুল জীবনেও টুকটাক ছড়া লিখতেন। তিনি একজন পেশাদার লেখক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে ওৎপ্রতভাবে জড়িত।
তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য, ১) বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক ইনকিলাব। ২) সাবেক সভাপতি, অবিভক্ত যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে)। ৩) সাবেক সেক্রেটারি ও সভাপতি, ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব, যশোর। ৪) সহ সভাপতি, যশোর সাহিত্য পরিষদ ৫) উপদেষ্টা, জাতীয় কবি পরিষদ ৬) জীবন সদস্য, যশোর ইনস্টিটিউট ৭) জীবন সদস্য, যশোর শিল্পকলা একাডেমী।

তিনি ১৯৭৮ সালে সাংবাদিকতার পেশায় যুক্ত হন। এরপর থেকা পর্যায়ক্রমে দৈনিক গণকন্ঠের নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক সমাচারের মফস্বল সম্পাদক, যশোরের দৈনিক স্ফুলিঙ্গের স্টাফ রিপোর্টার ও বার্তা সম্পাদক, দৈনিক ঠিকানার নির্বাহী সম্পাদক এবং দৈনিক আজাদের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন। সাপ্তাহিক ছুটি এবং সাপ্তাহিক পূর্ণিমায়ও লেখালেখি করেছেন। তারপর একটানা দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে এখনো পর্যন্ত কর্মরত আছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হয়। অনেক কবিতা আবৃত্তি হয়ে ইউটিউবে প্রচারিত হয়েছে।

তিনি হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ২০১২ সালের দৈনিক ইনকিলাব সেরা সাংবাদিক ভূষিত হন।

তিনি গবেষণা গ্রন্থ ‘মাঠ সাংবাদিকতা’ ও আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘ক্ষতবিক্ষত বিবেক’ এবং ‘দিবানিশি স্বপ্নের খেলা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক। তিনি অনলাইন সাহিত্য সংগঠন জাতীয় কবি পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে অধিষ্ঠিত। তিনি ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট ও শিল্পকলা একাডেমীর আজীবন সদস্য। লেখকের পরবর্তী প্রকাশিতব্য নির্বাচিত গ্রন্থ “কর্মবীরের জীবনযাত্রা।” কবির “হিংস্রতার বাড়াবাড়ি, সমাজের কান্না, ইচ্ছার মৃত্যু, ভালোবাসার হাহাকার, আগুন কবি, প্রকৃতির কোল, সুন্দরবন কাঁদছে, মাটির বিছানা, স্বপ্নের স্মৃতি, অসম্পূর্ণ প্রেম, প্রেমস্রোত, খাম ভর্তি কান্নার চিঠি, ভাবনার দরজাসহ অনেক কবিতা দেশ বিদেশের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং আবৃত্তিকার দিয়ে রেকর্ড করে ইউটিউবে গেছে। বিশেষ করে “আগুন কবি” কবিতাটি দেশ বিদেশেও সমাদৃত হয়েছে। অনেক কবির অনুরোধে অনুবাদ করতে উৎসাহিত হয়েছি। Fire poet এখন ইউটিউবে ঘুরছে।

পরিশেষে লেখকের বক্তব্য:

আসসালামু আলাইকুম। আমি আমার অনুভূতি ব্যক্ত করার আগে অচিনপুর এক্সপ্রেস এর কর্ণধার, প্রকাশক ও সম্পাদক মো আরিফুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি কবি সাহিত্যিকদের পোর্টফোলিও করার মহতি উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।

আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে দেখেছি কখনো বিপুল প্রতিকুলতা, ঘাত-প্রতিঘাত ও গাঢ়ো কালো অন্ধকার। আবার কখনো বা ব্যাথা ও বেদনা জয় করে আলোর আকাঙ্খার মাঝে নিত্যনতুন স্বপ্ন দেখে এগিয়ে চলা।

সুর্যোদয় আর সূর্যাস্ত অসংবাদিত সত্য। চলমান জীবনে ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ থাকবে এটিই স্বাভাবিক। সব জানালা দরজা বন্ধ হয়ে আবার মুহূর্তে বাতাসের ঝাপটায় খুলে যায়। প্রতিটি জীবনের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে থাকে। কুসুমাস্তীর্ণ না হলেও মাঠ সাংবাদিকতায় কোথায় কিভাবে এবং কেন বাধা আসে, কতটা আনন্দ ও আশার স্বপ্নে ভাসে, বিভাজনের রেখায় মহান পেশায় বিঘœতা কোন পর্যায়ে পৌঁছে, জীবন বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি কতটা, কিভাবেই বা হয় বিবেক ক্ষতবিক্ষত, তা জীবনের উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতার বহুমাত্রিক চালচিত্র তুলে ধরে মাঠ সাংবাদিকতা বই লিখেছি।

বিশেষ করে একসমসয় সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে খ্যাত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঝুঁকির মাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশী। মাঝেমধ্যেই সাংবাদিকদের দিকে শ্যেন দৃষ্টি পড়ে রাজনৈতিক ক্যাডারদের। জীবন দিয়েছে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকজন প্রথিতযশা সাংবাদিক। এখনো মাঝেমধ্যে সন্ত্রাসী, অপরাধী, সমাজবিরোধী ও অস্ত্রবাজ চরমপন্থীরা ফণা তোলে। জটিল হওয়া রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি করা নেতাদের দাম্ভিক চেহারাও ফুটে ওঠে।

কোনকিছুতেই অধৈর্য্য, বিরক্তি ও হতাশা বাসা বাধেনি আমার সনাংবাদিকতায়। বরং এর মধ্যেই সাহস নিয়ে সামনে পা ফেলতে কোনরকম দ্বিধা বা কুন্ঠাবোধ করিনি। থাকিনি বিন্দুমাত্র পিছিয়ে। এতে নিত্যনতুন হরেকরকম অভিজ্ঞতার ঝোলা ভরে তোলার সুযোগ হয়েছে। ভাবনার মর্মস্থল হয়েছে সমৃদ্ধ। মাঠ সাংবাদিকতায় যেসব সমস্যা, বাধা, বিপদ আপদ, বঞ্চনা,স্বপ্ন, বাস্তবতা, হুমকি ধামকি, হয়রানী ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তা নিয়ে লিখেছি আত্মকথা। যা ক্ষতবিক্ষত বিবেক গ্রন্থে প্রকাশ হয়েছে। এটি সমুদ্রের মতো দিকচিহ্নহীন বৈচিত্রে অনন্ত এক জীবনগ্রন্থ।

আমার মূল পেশা সাংবাদিকতা। ‘দিবানিশি স্বপ্নের খেলা’ কাব্যগ্রন্থ আমার জ্যীবনের মোড় ঘুরিয়ে এক মহাজগতে প্রবেশ করিয়েছে। স্বপ্নের ভেলায় চড়ে পাড়ি দিয়েছি জীবন নামের বিশাল নদী। সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামিন পড়ন্ত বেলায়ও কবি ও সাংবাদিক হিসেবে লেখালেখির তৌফিক দিয়েছেনসেজন্য আল্লাহ স্বুহানাতাল্লাহ’র কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করছি। প্রেম, ভালোবাসা, স্বপ্ন, সাধ, সমাজচিত্র, আশা-আকাঙ্খার বিষয় এবং বৈচিত্রে ভরপুর বাস্তব ও জীবনধর্মী কাব্যগ্রন্থ ‘দিবানিশি স্বপ্নের খেলা’ আমাকে কবি করে তুলেছে। সবার কাছে দোয়া চাই। আমি যেন আমৃত্যু সাহিত্য চর্চা করে যেতে পারি। কবি সাহিত্যিক লেখক সবাই সুস্থ থাকুর, ভালো থাকুন আর বেশি বেশি করে লিখুন।

মিজানুর রহমান তোতা
২০-০৩-২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Please visit...