রাফিকে

তাবাসসুম নাজ
টরেন্টো, কানাডা।

গল্প: রাফিকে

প্রিয় রাফি,
খুব অবাক হচ্ছ নিশ্চয়? প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল তোমাকে চিঠি লিখিনি। তার আগে অবশ্য সপ্তাহে দুইটা চিঠি তোমাকে লেখা আমার বাঁধাধরা কাজ ছিল, তোমারই পীড়াপীড়িতে। আমি আপত্তি করতাম, বলতাম প্রতিদিন আমাদের দেখা হচ্ছে, এরমধ্যে আবার চিঠি ফিটি লিখতে পারব না বাবা! শুনে তোমার মুখ আষাঢ়ের মেঘের মত থমথমে হয়ে যেত। অবশেষে সেই মুখে হাসি ফোটাতে আমাকে লিখতেই হত।

তোমাকে প্রথম দেখার দিনটা আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে। লিয়ার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে। লিয়া আমার সাথে পড়ত বটে কিন্তু ঘনিষ্ঠতা একেবারে ছিল না। ও হচ্ছে সমাজের উঁচুতলার মানুষ, বড়লোক বাবার মেয়ে। ওর গ্রুপ আলাদা। আর আমি এসেছি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। কিন্তু কি মনে করে লিয়া সেবারে ক্লাসের সবাইকে ওর বাসায় জন্মদিনের দাওয়াত দিয়েছিল। যাব না যাব না করেও আমি গিয়ে উপস্থিত হলাম। স্রেফ কৌতুহলের বশে।

আমি গিয়ে পৌঁছাবার কিছুক্ষণের মধ্যে তুমি সেখানে এসে পড়লে। একদল সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে। তোমাকে ঘিরে লিয়ার ব্যস্ততা আর তার চোখমুখের অবস্থা দেখে বুঝে নিতে কষ্ট হল না যে তুমি তার বিশেষ একজন। আমার পাশে বসা রিমা বলেই ফেলল
-এই ছেলেটাকে দেখেছিস? বড়লোকের বখে যাওয়া ছেলে। কিন্তু এর প্রতি লিয়ার আগ্রহের শেষ নাই।
কথাটা তোমার কানে গেল। তুমি সরাসরি আমার দিকে তাকালে। আমি মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। বড়লোকের বখে যাওয়া ছেলেদের নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নাই।

এরপর তোমার সাথে কি করে জানি ঘনঘন দেখা হয়ে যেতে লাগল। আমি তোমাকে উপেক্ষা করেছি, পাত্তা দেইনি। কারণ তোমার নামে বহু দুর্নাম আমার কানে এসেছিল। তুমি নাকি উশৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত, ড্রাগ খাও, মেয়ে পটাতে ওস্তাদ। আর আমার জীবনের লক্ষ্য স্থির। সেখানে উশৃঙ্খল কোনো ছেলের সাথে মেশার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু আমার নিঃস্পৃহভাব তোমার খুব লেগেছিল। তাই একদিন সরাসরি আমার কাছে জানতে চাইলে
-আমাকে এড়িয়ে চলবার কারণ জানতে পারি কী?
হঠাৎ এমন প্রশ্নে আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। ক্ষীণভাবে বললাম
-কই, নাতো!
-আমরা কি বন্ধু হতে পারি না?
ততক্ষণে আমি নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছি। একটু তীর্যকভাবেই বললাম
-বন্ধুর তো অভাব নাই দেখছি। আমাকে বন্ধু হিসাবে না পেলেও কিছু আসবে যাবে না।
তুমি মৃদু হাসলে। তারপরে বললে
-কার কিসে আসবে যাবে তা কে বলতে পারে? বন্ধুত্বে তোমার এত আপত্তি কেন? সামান্য বন্ধুত্বই তো।
আমি বিপদে পড়ে গেলাম। এ কি যন্ত্রণা রে বাবা! আমার বন্ধুত্ব এত দামী হয়ে গেল কবে থেকে?
শেষে সত্যি কথাটা বলে ফেললাম
— দেখো, এমন হুট করে বন্ধু বানাবার অভ্যাস আমার নাই। তাছাড়া তোমার নামে অনেক কথা আমার কানে এসেছে। কথাগুলি যদি সত্যি হয় তবে তোমার সাথে মেশার ইচ্ছা আমার নাই। আমি সোজা পথে চলবার মানুষ।
কথা শেষ করে আর দাঁড়ালাম না। ভেবেছিলাম এমন কথার পর তোমার টিকিটিরও আর দেখা পাব না। কিন্তু আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে তোমার সাথে আমার এখানে সেখানে আবার দেখা হতে থাকল। আমাকে দেখলে তুমি এগিয়ে এসে ঠাট্টা করতে
-কি, সোজা পথের মানুষ, আমার বন্ধু হবে?
আমিও পালটা ঠাট্টা করতাম
– হ্যাঁ হব। যদি তুমি সোজা পথ ধর!
– ওরে বাবা! তুমি ভয়ের মুখ করতে। আমি হেসে ফেলতাম।
ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে একধরণের অলিখিত বন্ধুত্ব হয়েই গেল। এখন বুঝতে পারি তুমি আসলে একটা শক্ত নোঙর খুঁজছিলে। তাই আমার চারিত্রিক দৃঢ়তা তোমাকে আকর্ষণ করেছিল। কারণ তোমার চারপাশে তখন শুধু চাটুকারের দল। সে জীবনে তুমি ক্লান্ত হয়ে গেছিলে, কিন্তু বের হবার পথ খুঁজে পাচ্ছিলে না।
বছরখানেকের মধ্যে তুমি নিজেকে অনেকখানি পাল্টে ফেললে। এর কৃতিত্ব তুমি অবশ্য আমাকে দিতে চাইতে কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এর পুরাটাই তোমার প্রাপ্য। সর্বনাশের পথ থেকে ফিরে আসতে মনের জোর লাগে। তোমার নিজের অনেক গুণ, সেগুলি পরিচর্যার অভাবে ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। যাহোক, আমরা তখন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তোমার এতটুকু বেচাল দেখলে আমি কঞ্চি নিয়ে তোমাকে তাড়া করছি। আর তুমিও এমন ভাব দেখাচ্ছ যে আমার ভয়ে তুমি থরহরিকম্প।

আরো কিছুদিন যাবার পর তুমি যখন ভালোবাসার কথা তুললে তখন আমি আবারো আপত্তি জানালাম
-এসব কথা বলে এত সুন্দর বন্ধুত্বটা নষ্ট কোরো না, রাফি।
-রুদাবা, আমি আমার মনের কথাটা জানালাম। গ্রহণ করা না করাটা তোমার ইচ্ছা।
-রাফি, এই জটিলতা বয়ে আনবার কোনো দরকার আছে? আমরা খুব ভালো বন্ধু, সেভাবেই থাকি না কেন?
ঝগড়া লেগে যেতে দেরী হল না। রাগ করে দুজনে দুজনার পথ ধরলাম। এরপর প্রায় সপ্তাহখানেক তুমি উধাও হয়ে গেলে।

তোমার অনুপস্থিতি আমাকে উপলব্ধি করাতে বাধ্য করল যে তুমি আমার জন্য কি পরিমাণে অপরিহার্য হয়ে গেছ। তোমাকে ছাড়া আমার এক মুহূর্ত কাটছে না। আমি তোমাকে কখন ভালোবেসে ফেলেছি আমি নিজেও জানি না।
পাগলের মত তোমার সাথে যোগাযোগ করবার চেষ্টা করলাম। তুমি ফোন ধরছ না। তোমার বন্ধুদের কাছে তোমার খোঁজ করলাম কিন্তু তাদের সাথেও তোমার আর যোগাযোগ নাই। আশ্চর্য হয়ে দেখলাম যে গত একবছরে তুমি পুরনো বন্ধুদের সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছ। শুধু এক রিয়াজের সাথে যা একটু যোগাযোগ রেখেছ। তার কাছে খবর পেলাম তুমি সেন্ট মার্টিন্সে গিয়ে বসে আছ! শুনে রাগে আমার গা জ্বলে গেল, মনে মনে তোমাকে যত ধরণের গালি দেয়া যায় দিলাম। তুমি সেন্ট মার্টিন্সে গিয়ে কবিত্ব করছ আর এদিকে আমি হন্যে হয়ে তোমাকে খুঁজছি।

আরো কয়েকদিন যাবার পর তুমি আমার ফোন দয়া করে ধরলে।
-রাফি, ঢাকায় ফিরে আসো।
– না, আমি ফিরছি না।
-রাফি, ভালো হবে না কিন্তু বলছি! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঢাকায় ফিরে আসো।
-না। ফিরব কেন?
-কেন ফিরবে সেটা সামনাসামনি দেখা হলেই বলব।
তুমি চুপ করে থাকলে কিছুক্ষণ। তারপরে আস্তে করে বললে
-আচ্ছা আসছি।
তবে তোমাকে আমি সতর্ক করে দিতেও ছাড়িনি।
-রাফি, এতটুকু বেচাল দেখলে কিন্তু তোমাকে আমি খুন করে ফেলব।
তুমি হাতজোড় করে হাসতে হাসতে বললে
-যো হুকুম, মহারাণী।
এরপরের ছয় মাস আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। এর প্রতিটা পল, প্রতিটা মুহূর্ত আমি আমার হৃদয়ে মুক্তার মত ধারণ করে রেখেছি।

তারপর? তারপর কী হল, রাফি?
বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত তুমি আমার সাথে সমস্ত যোগাযোগ ছিন্ন করে দিলে। তোমাকে ফোন করতে করতে আমার পাগল হবার দশা। তুমি ফোন ধরলে না। নিরুপায় হয়ে রিয়াজের কাছে তোমার খোঁজ করলাম। সে ইতস্তত করতে লাগল। বুঝলাম তার কাছেও কোনো খবর পাওয়া যাবে না। আমার তখন কী যে একটা সময় গেছে। তোমার কী হতে পারে ভেবে আমি কূল কিনারা পাচ্ছি না। ভয়ংকর সব দুশ্চিন্তা মনে আসছে।

দিন কাটতে লাগল। তুমি সেই যে নীরব হয়ে গেলে, তোমার কোনো খোঁজই আর আমি পেলাম না। ধীরে ধীরে আমার মন থেকে দুশ্চিন্তা সরে গিয়ে সেখানে জায়গা করে নিল এক ভয়ংকর সন্দেহ। আমি সহজলভ্য না দেখে তুমি হয়ত আমাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলে। এখন আমাকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে তুমি সরে পড়েছ। আর আমি বোকার মত পুরাপুরি তোমার জালে ধরা পড়ে গেছি।
এ নিয়ে যত ভাবি, ততো বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। এছাড়া তোমার নীরবতার আর কী কারণ থাকতে পারে? প্রথমে আমি একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিলাম। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার এতটুকু খাঁদ ছিল না। সেই ভালোবাসা তুমি এমনভাবে অপমান করতে পারো ভাবতে রাগে, দুঃখে, লজ্জায় আমি চুরচুর হয়ে গেলাম। কিন্তু আমার প্রবল আত্মসম্মান আমাকে বেশিদিন সে অবস্থায় থাকতে দিল না। মনের জোরে আমি নিজেকে সামলে নিলাম। তোমার প্রতি আমার মনে ভালোবাসার বদলে জন্ম নিল তীব্র ঘৃণা। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম, যে মানুষ আমার সাথে এমনভাবে প্রতারণা করেছে তাকে আমি ভুলে যাব। তার ছায়াও আমি আমার হৃদয়ে রাখব না।
প্রতিজ্ঞামত তোমার দেয়া প্রতিটা উপহার আমি ছুড়ে ফেলে দিলাম, তোমাকে আমার হৃদয় থেকে বিষাক্ত কাঁটার মত সমূলে উৎপাটিত করলাম।
মনে মনে আমি তখন শুধুমাত্র একটা খোলস, যাকে কোনোকিছু আর স্পর্শ করে না। কিন্তু বাইরে আমি একদম স্বাভাবিক। পড়াশুনায় মন ঢেলে দিলাম। ফাইনাল পরীক্ষা এসে পড়েছে। পড়াশুনার পাট ভালোভাবে চুকিয়ে ভালো একটা চাকরি পেয়ে গেলাম।

তোমাকে আমার জীবন থেকে যখন নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, তখনি আসলো দ্বিতীয় ধাক্কাটা। রিয়াজের মুখে তোমার মৃত্যু সংবাদ পেলাম। খুসখুসে কাশির উপসর্গ নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল তুমি। তখনি ধরা পড়ল তোমার মরণব্যাধি, তোমার দিন গোনাগুনতি হয়ে গেছে।
রাফি, এই খবরটা তুমি এভাবে আমার কাছ থেকে লুকালে কেন? আমরা তো আরো কিছুদিন একসাথে থাকতে পারতাম।
আমি তোমাকে জানি। তুমি নিশ্চয় ভেবেছিলে এভাবে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে তুমি আমাকে এই মর্মান্তিক দুঃখের হাত থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু তা কি হল, রাফি? আমি কতটা তোমাকে ভুল বুঝলাম? আর এই খবর পেয়ে আমি দ্বিগুণভাবে ভেঙ্গে পড়লাম। নিজেকে চরম অপরাধী মনে হল। তোমাকে তো আমি কম অভিশাপ দেইনি।

তোমার দেয়া শেষ উপহার রিয়াজ আমার হাতে তুলে দিল। খুব সুন্দর কাজকরা একটা কাঠের বক্স। বক্সটা বুকে চেপে ধরে আমি বাসায় ফিরে আসলাম। খুলে দেখি আমার লেখা সব চিঠি তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছ।
রাফি, তুমি এতটা নিষ্ঠুর কি করে হলে?
একদিন তোমার আমার দেখা হবে নিশ্চয়। সেদিন আমি আগের মতোই তোমাকে কঞ্চি হাতে তাড়া করব। তুমি খালি অপেক্ষা করো।

দিন বয়ে যায়। কাজকর্মে আমার খুব সুনাম। তরতর করে প্রোমোশন হচ্ছে। বেতনের অংক সেইসাথে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। জাগতিক কোনো জিনিসের আমার অভাব নাই। কিন্তু আমার হৃদয়ে যে বিশাল শূন্যস্থান সেটা রয়েই গেল। সময়ের পলিমাটি তার ধার কিছুটা ভোতা করে দিলেও তোমাকে আমি ভুলতে পারলাম না। কিম্বা ঘুরিয়ে বললে বলা চলে তোমার সমকক্ষ কাউকে পেলাম না। ভেবেছিলাম এভাবেই জীবন চলে যাবে।

কিন্তু বিধাতা আমার জন্য আরো কিছু রেখেছিল। অফিসের নতুন বস হয়ে আসলো রায়হান। নিজে যেমন কাজে দক্ষ, তেমনি অন্যদের কাছ থেকেও কাজ আদায় করে নিতে জানে। তাছাড়া সে কথাবার্তায় মার্জিত, সবাইকে যথাযথ সম্মান দেয়। আমরা একসাথে বহুদিন অফিস আওয়ার পার হবার পর নির্জন অফিসে বসে কাজ করেছি। বিভিন্ন কাজে বাইরে একসাথে গেছি। কোনোদিন তার ব্যবহারে এতটুকু বিচ্যুতি দেখিনি।

কিছুদিন আগে রায়হান আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। আমি অনেক ভেবেছি এ নিয়ে। তারপরে মত দিয়েছি। রায়হান আমার যোগ্য পাত্র। আর আমারও এই নিঃসঙ্গ জীবন আর ভালো লাগছে না। আমি রায়হানের সাথে কাজকর্মের বাইরে সময় কাটিয়ে ওকে জানবার চেষ্টা করেছি। ও সত্যি আমার যোগ্য পুরুষ। সভ্য, ভদ্র, মার্জিত। সময়ের সাথে সাথে রায়হানকেও আমি ভালোবেসে ফেলব নিশ্চয়।

আজ আমার হলুদ হয়ে গেল।
কাল আমার বিয়ে।
আমার জীবনের এত বড় একটা ঘটনা তোমাকে না জানিয়ে আমি স্বস্তি পাচ্ছিলাম না, রাফি। সেজন্য এই চিঠি।
কিন্তু তুমি আবার ভেবে নিও না যে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা ফুরিয়ে গেছে। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা ঠিক আগের মতোই আছে। ভালোবাসা তো কোনো বস্তু না যে একজনের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে আরেকজনকে দিয়ে দেব।
বরং আমার মনে হচ্ছে যে একসঙ্গে দুইজনকে আমি ভালোবাসতে পারব। তোমার জন্য আমার যে ভালোবাসা, সেটা আমার হৃদয়ের একাংশে সযত্নে রক্ষিত আছে। আর রায়হানের প্রতি আমার যে শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা আর ভালোলাগা আছে, সেটা আমার হৃদয়ের অন্য অংশে ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে একদিন। হয়ত অল্পবয়সের উম্মাদনা সে ভালোবাসায় থাকবে না, কিন্তু তাতে কী?

আমার নতুন জীবনের জন্য আমাকে আশীর্বাদ কর, রাফি।
আর জেনে রেখো তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি।

ইতি,
তোমার রুদাবা।

অচিনপুর ডেস্ক/ এস. এস. ববি

Post navigation