করোনা ভাইরাস, কী করব, কী করব না!

আফতাব হোসেন
লিভারপুল, ইংল্যান্ড।

নন-ফিকশন: করোনা ভাইরাস, কী করব, কী করব না!

বাইরে থেকে এলেই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে। মহারানীর কড়া নির্দেশ। না না, করোনা ভাইরাসের জন্য নয়। অনেক আগে থেকেই এ নিয়ম জারি আছে। বাইরে কত রোগ জীবাণু, কত ধুলো ময়লা ! হাত না ধুয়ে তাঁকে ছোঁয়া তো দূরের কথা, ঘরের আসবাব পত্রও ছোঁয়া যাবে না। যদিও রাস্তার পাশে টঙ ঘরে ভাজা পুরি, পিঁয়াজু আমি লুকিয়ে চুরিয়ে হাত না ধুয়েই খাই। আমার সাত জনমের ভাগ্য, মহারানী তা জানতে পারে না। পারলে পেট পরিষ্কার করার অজুহাতে আমাকে সাবানগোলা পানি খাইয়ে ছাড়ত! সেমতে, আজ মর্নিং ওয়াক সেরে বাসায় ফিরে প্রথমেই হাত দুটো রগড়ে রগড়ে সাবান দিয়ে ধুই। বড় মায়া হয় হাত দুটোর উপর। আহা! বেচারা ! ভাগ্যিস, আমার রঙ ফর্সা। কালো হলে সাবানের ঘসায় হাত দুটো ছুলি ওঠা রুগীর মতো কবেই ফ্যাকাসে হয়ে যেত !

হাত ধুয়ে ডাইনিং টেবিলে আসতেই দেখি বেশ কিছু হৃষ্টপুষ্ট কমলালেবু পড়ে আছে। চোখ চকচক করে ওঠে আমার। মুখে পানি এসে যায়। হাত বাড়িয়ে একটা নিতে গেলেই হা হা করে ওঠে গিন্নী,

– ছুঁইয়ো না, ছুঁইয়ো না।

শুনে মাঝ পথেই স্কিড করে ব্রেক কষে হাত। ট্রাফিক সিগনাল ভঙ্গ করা ড্রাইভার যেমন কাঁচুমাচু হয়ে পুলিশের দিকে চায়, আমিও তেমন গোবেচারা চোখে একবার হাতের দিকে তাকাই, একবার গিন্নীর দিকে তাকাই। আমতা আমতা করে বলি,
– হাত তো ধুয়েছি।
– ফলগুলোও ধুতে হবে।

এই এক বাতিক তার। আপেল, আঙ্গুরের কথা আলাদা। কমলা, কলাও সে ধুয়ে খায়। আরে বাবা, কমলা, কলা তো আমরা ছোবড়াসহ খাই না। ধুইতে হবে কেন? কে শোনে কার কথা? পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বলে কথা! তর্ক করে লাভ নেই। তর্ক যুদ্ধে নারীকুলের সাথে কেউ কখনও জিতেছে বলে আমার জানা নেই। বাধ্য হয়ে বললাম,
– ঠিক আছে, আমি ধুয়ে নিচ্ছি।
– না। তোমার ধোয়ায় হবে না। ওগুলো গরম পানি আর সাবান দিয়ে ধুতে হবে।

ঘরের ভেতর বাজ পড়লেও বোধহয় এতটা অবাক হতাম না। কমলালেবু ধুতে হবে সাবান আর গরম পানি দিয়ে? মেজাজ বিগড়ে যায়। রেগে মেগে বলি,
– কেন? ওগুলো কি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনেছ না কেনার পর নর্দমায় পড়ে গিয়েছিল?

– আরে বোকা, না। দেখছ না, ওগুলো চায়না লেবু?
– তো?
– মতিকে বললাম, কমলা কিনে আনতে। ব্যাটা চায়না লেবু কিনে নিয়ে এসেছে।
– তো কী হয়েছে?
– কোন দুনিয়ায় থাকো তুমি? জানো না, চায়নায় কত লোক করোনা ভাইরাসে মারা যাচ্ছে?

– তা যাচ্ছে। কিন্তু তার সাথে লেবুর সম্পর্ক কী?

– বাহ, লেবুর গায়ে ভাইরাস থাকতে পারে না?

শুনে আমি হাসব না কাঁদব, বুঝতে পারি না। কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তার দিকে চেয়ে থাকি। যারা বাঙালি জাতির বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে, তাদের একবার এসে আমার বউটিকে দেখে যাওয়া উচিৎ। শুধু আমার বউ কেন? এমন বিচক্ষণ আর দূরদর্শী মানুষের ভরে আছে আমার দেশ। ভাবলাম, এদের এই দূরের দৃষ্টি কাছে আনতে হবে। নইলে উষ্ঠা খেয়ে মরতে হবে। শান্ত কণ্ঠে বলি,
– তা, থাকতে পারে। কিন্তু কথা হল, প্রথমত, এই লেবুর নাম চায়না লেবু হলেও এটা চায়না থেকে আমদানি করা হয়েছে, নাকি বাংলাদেশেই এই প্রজাতির লেবু উৎপন্ন হয়েছে, আমাদের জানা নেই। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই, এগুলো চায়না থেকে আমদানি করা হয়েছে, তাহলেও চায়না থেকে বাংলাদেশে পাড়ি দিতে যে দীর্ঘ সময় লেগেছে, তাতে করোনা ভাইরাসের বেঁচে থাকার কথা নয়।

– কে বলল তোমাকে? তুমি জানো না, করোনা ভাইরাস আটাশ দিন পর্যন্ত বাইরে বেঁচে থাকতে পারে।
– কোথায় পেলে এই তথ্য?
– ইন্টারনেটে।
– আর কী পেয়েছ?
– ভাবছি, এখন থেকে তোমাকে গরম পানি খেতে দেব।

– কেন? আমি তো আর করোনা ভাইরাস না। আমাকে কেন মারার পায়তারা করছ?

– সব কিছু নিয়ে কেন যে ইয়ার্কি মারো, বুঝি না বাপু। কাল একজন ইউনিসেফের মেসেজ পাঠিয়েছে। বলেছে, করোনা সত্তর ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে না। তাই ঘন ঘন গরম পানি খেতে বলা হয়েছে।

– কও কী? এত গরম পানি খাইলে তো আমার নাড়ী ভুঁড়ি সেদ্ধ হইয়া যাইবো। পরে তুমি আলু দিয়া ভুঁড়ি কারি রানতে পারবা।

– হ, তোমারে কইছে? তুমি বেশি বুঝো ? ভাগ্য ভালো, তুমি ডাক্তারি ছাইড়া দিছো। নাইলে, এই বুদ্ধি নিয়া ডাক্তারি করলে রুগী একটাও বাঁচত না। ভালো কথা, কয়েক ডজন সার্জিকাল মাস্ক কিনে এনো। পরে আর পাবে না।

– কেন? আমি তো আর ডাক্তারিও করি না। অপারেশন থিয়েটারেও যাই না।

– অপারেশন থিয়েটারে না যাও, বাইরে তো যাও। মাস্ক পরা থাকলে ভাইরাস শরীরে ঢুকতে পারবে না।

কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে বউটির দিকে চেয়ে থাকি। হুজুগে মাতাল বাঙ্গালির হুজুগ বৃক্ষের মুল, ডাল, পালা যে কতটা ছড়াতে পারে, বিশেষ করে এই বিনে পয়সার ফেসবুকীয় যুগে, এতক্ষণে তার প্রমাণ পেলাম। এই হুজুগ বৃক্ষকে সমূলে উৎপাটন না করতে পারলে সমূহ বিপদ। আমি বউকে জিজ্ঞেস করি,

– সি ডি সি এর নাম শুনেছ?

– সি এস ডি গোডাউনের নাম শুনেছি। যেখানে খাদ্য মজুদ রাখা হয়। সি ডি সি কী সেই রকম কিছু?

– সি ডি সি অর্থ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল। আমেরিকার বিশাল রোগ প্রতিরোধ প্রতিষ্ঠান। এরা সারা পৃথিবীর রোগ শোক নিয়ে রিসার্চ করে, প্রতিরোধক, প্রতিশোধক, প্রতিকার ও চিকিৎসার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানতে হলে তাদের ওয়েবসাইটে যাবে। লেটেস্ট আপডেট জানতে পারবে। ইংরেজি না বুঝলে গুগলে বাংলায় ট্রান্সলেশনের অপশন আছে। ফেসবুকে কিংবা মেসেঞ্জারে কেউ কিছু পাঠালেই সেটা সত্য ধরে নেবার কোনো কারণ নেই।

– তা কী বলছে তোমার সি ডি সি?

– শোনো, তোমাকে খুব সাধারণ ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছি, করোনা ভাইরাস কী? আমাদের কী করা উচিৎ, কী করা উচিৎ নয়। দেখো, যুগে যুগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম মহামারি এসেছে পৃথিবীতে। যেমন অতিতে প্লেগ, গুটি বসন্ত, কলেরা এসেছে। কয়েক বছর আগে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু এসেছিল। এখন করোনা ভাইরাস এসেছে। আমার মনে হয়, আমরা যে ঈশ্বরের হাতে বা প্রকৃতির হাতে অসহায়, ঈশ্বর বা প্রকৃতি তা মাঝে মাঝে জানান দেয়। আবার এই ঈশ্বরের সৃষ্ট জীব, মানুষই এই মহামারিকে পরাস্ত করেছে যুগে যুগে।

করোনা ভাইরাস এক ধরণের জীবাণু যা ১৯৬০ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। এর বিভিন্ন রকম প্রজাতি আছে। এরা সাধারণত সর্দি-কাশি(Common Cold) জাতীয় রোগের জন্য দায়ী। তবে মাঝে মাঝে পরিবর্তিত (Muted) হয়ে মারাত্মক শক্তিশালী হয় এবং মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর আগেও করোনা ভাইরাস Muted হয়ে SARS ( serious acute respiratory syndrome) এবং MERS ( Middle East Respiratory Syndrome) করেছিল এবং অনেক মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। কিন্তু এবারের করোনা ভাইরাস আগের সবগুলির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এবারের করোনা ভাইরাসের নাম নোভেল করোনা ভাইরাস আর রোগের নাম COVID-19.
– তাহলে তো খুব ভয়ের কারণ।
– হ্যাঁ, ভয়ের কারণ তো বটেই। এ পর্যন্ত এই নতুন করোনা ভাইরাস প্রায় তিন হাজার চারশো মানুষের জীবন নিয়েছে।
– বলো কী?
– তবে প্যানিক হয়ো না। এ পর্যন্ত আটানব্বই হাজারের বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে। তার মানে বাকি পঁচানব্বই হাজার মানুষ ভালো হয়ে গেছে।
– এ রোগের লক্ষণ কী?
– শুরু হয় সাধারণ সর্দি কাশি দিয়েই। তবে কেউ কেউ শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, সেপটিক শকে মৃত্যু বরণ করতে পারে।
– যে কেউ কি মারা যেতে পারে?
– না, যারা বৃদ্ধ, যাদের আগে থেকেই রোগ আছে যেমন হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের রোগ যেমন এজমা, ব্রংকাইটিস, কিংবা যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের রিস্ক বেশি।
– এর চিকিৎসা কী?
– বিশেষ কোনো চিকিৎসা নেই। তবে সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট দিতে হয়।
– বাংলাদেশে কি কেউ আক্রান্ত হয়েছে ?
– এখনও বাংলাদেশ অফিসিয়ালি এই রোগ সনাক্তের ঘোষণা দেয়নি। তবে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে ধরা পড়াটা হয়ত এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র !

– তুমি কিন্তু আমাকে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছ!
– না, ভয় ধরাচ্ছি না। সতর্ক করছি মাত্র। দেখো, দুর্যোগ আসতেই পারে। ভয় না পেয়ে সাহসের সাথে, ঠাণ্ডা মাথায় সেই দুর্যোগের মোকাবেলা করাই হল বুদ্ধিমানের কাজ।
– কী ভাবে মোকাবেলা করব?
– দেখো, এই রোগের যেহেতু কোনো প্রতিকার বা চিকিৎসা নেই, সুতরাং একে প্রতিরোধ করাটাই হলো এর হাত থেকে বাঁচার উপায়।
– কী ভাবে প্রতিরোধ করব?
– দুইভাবে। প্রথমত অন্যকে আক্রান্ত না করে এবং নিজে আক্রান্ত না হয়ে।
– বুঝিয়ে বলো।
– যদি কারও সর্দি, কাশি, জ্বর বা করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়, তাঁকে এইগুলি মেনে চলতে হবে। যেমন, দেখো, আমরা বাঙ্গালিরা যেখানে সেখানে ওয়াক থু বলে কফ থুতু ফেলি। এটা না করা। খোলা বাতাসে হাঁচি, কাশি না দেয়া। হাঁচি-কাশি এলে মুখের সামনে টিস্যু ধরা এবং তা কোনো ক্লোজড বিনে ফেলে দেয়া। টিস্যু না থাকলে মুখের সামনে হাত নয়, কনুইয়ের সামনের অংশ মুখের সামনে এনে কাশি দেয়া।
– হাত না এনে কনুই কেন?
– দেখো, এই জীবাণু মূলত হাঁচি, কাশির সাথে বের হয়। যদি হাত সামনে এনে কাশো আর সেই হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরো বা কারো সাথে হাত মিলাও, তবে তুমি জীবাণুটা তাঁকে দিয়ে দিচ্ছ। কনুই দিয়ে তো কিছু ধরতে পারবে না।

– হুম, আর?

– এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে পাবলিক প্লেসে না যেয়ে ঘরেই থাকা। সাধারণ চিকিৎসা নেয়া যেমন প্যারাসিটামল, প্রচুর পানি এবং প্রচুর বিশ্রাম। যদি জ্বর না কমে, কিংবা শ্বাস কষ্ট শুরু হয়, তাহলে হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যাওয়া।

– তাহলে বলছ, শুধু সর্দি কাশি হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার নেই ?
– যেয়ে তো কোনো লাভ নেই। কারণ ডাক্তার সাহেব তো তোমাকে কোনো বিশেষ চিকিৎসা দিতে পারবেন না। উল্টো তুমি ডাক্তারের চেম্বারে কিংবা হাসপাতালে গিয়ে অন্য রুগীদের রোগটা দিয়ে আসবে। তবে আগে যেমন বলেছি, না কমলে কিংবা লক্ষণ খারাপের দিকে গেলে অবশ্যই হাসপাতালে যেতে হবে।
– আর?
– নিয়মিত সাবান ও গরম পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে, কারণ তোমার হাতে প্রচুর জীবাণু থাকবে। বাইরে গেলে তুমি মাস্ক পরতে পারো, তাতে তুমি জীবাণু কম ছড়াবে।

– যাদের রোগ হয় নাই, তারাও কি মাস্ক পরবে?

– না, সি ডি সি বলছে, মাস্ক পরে রোগের হাত থেকে বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ, মাস্ক অবশ্যই মুখের সাথে ভালো করে ফিট হতে হবে, কোনো ফাঁক থাকা যাবে না। কোনোক্রমেই হাত দিয়ে মাস্কের নিচে মুখ কিংবা নাক চুলকানো যাবে না। একবার ব্যাবহার করলে সেটা ফেলে দিতে হবে। এই সব কারণে সাধারণ পাবলিককে মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়া হয়নি। তবে যারা আক্রান্ত, যারা আক্রান্ত রুগীর সেবা করছে, যারা ডাক্তার কিংবা নার্স, তাদের সার্বক্ষণিক মাস্ক পরে থাকতে বলা হয়েছে।
– আর রোগ থেকে বাঁচার উপায়?
– পারসোনাল হাইজিন। বাইরে থেকে এসেই ভালো করে হাত ধুতে হবে সাবান দিয়ে, কমপক্ষে বিশ সেকেন্ড ধরে। খাওয়ার আগে, নাক ঝাড়লে, কিংবা হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় হাত মুখের সামনে আনলে, সঙ্গে সঙ্গে একই ভাবে হাত ধুতে হবে। তবে বাইরে থাকলে এলকোহল হ্যান্ড ওয়াশ বা হেক্সিসল ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনো অবস্থাতেই হাত, মুখে, নাকে কিংবা চোখে দেয়া যাবে না। কারণ এপথেই এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।
– আর?
– যদি কাউকে হাঁচি দিতে কিংবা কাশতে দেখা যায়, তার থেকে দশ হাত (আসলে ছয় ফুট) দূরে থাকবে।

– চাইনিজ খাবার কিংবা চায়না থেকে আসা চিঠি কিংবা জিনিষপত্রে জীবাণু থাকতে পারে না? ওই যে পড়লাম, করোনা ভাইরাস ২৮ দিন পর্যন্ত জিনিষপত্রের গায়ে বাঁচতে পারে?

– বৈজ্ঞানিকরা এখনও জানেন না, করোনা কতদিন জীব দেহের বাইরে বেঁচে থাকে। আর এই পথে ইনফেকশন ছড়ানোরও কোনো এভিডেন্স এখনও পাওয়া যায়নি। সুতরাং ইন্টারনেটে যিনি লিখেছেন, তিনিই ভালো জানেন, কোথায় এই তথ্য পেয়েছেন।
– আর গরম পানি খাওয়া?
– পাগল? প্রথমত যে তাপমাত্রায় করোনা মরে, সেই তাপমাত্রার পানি পান করা সম্ভব নয়। করলেও শরীরে সেই পানি ঢুকে গেলে শরীরের তাপমাত্রার সাথে এডজাস্ট হয়ে যায় (৩৭ সেঃ) । সুতরাং গরম পানি পানের তরিকা পুরাই ভিত্তিহীন।
– তাহলে তোমার শেষ পরামর্শ কী?
– দেখো, প্রবল পরাক্রমশালী ঘূর্ণিঝড় যখন ধেয়ে আসে, সেই শক্তিতে আঘাত হানলেও এক সময় শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। ইতিহাস সাক্ষী, যুগে যুগে সব মহামারির জীবাণুও এক সময় শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল কিংবা মানুষ তাঁকে প্রতিরোধ করতে বা তার প্রতিকার করার কৌশল শিখে গিয়েছিল। আমি বিশ্বাস করি, করোনাও একদিন দুর্বল হয়ে পড়বে কিংবা তাঁকে প্রতিরোধ করার ভ্যাক্সিন বের হয়ে যাবে। এসো, ততদিন পর্যন্ত আমরা সতর্ক থাকি, নিজে বাঁচি, অন্যকে বাঁচতে সাহায্য করি।

অচিনপুর ডেস্ক /এসএসববি

,

Post navigation

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *