কবিতা ও আবৃত্তি: পিছুটানে বাঁধা

আরিফুর রহমান
সোনাডাঙ্গা, খুলনা।

কবিতা:

পিছুটানে বাঁধা

চারিদিকে চোখ আর মৃতদের পাহারা
মরচে পড়া চামড়ায় মুখ বা মুখোশ চেনা দায়,
মৃত্তিকার বুকে বিচরণ করবে বলে
গগন-ভরা জলকণা বরষা-বারি হয়,
বিষন্ন-বিপন্ন কদমফুল নিজ ভূবনে নিজ স্বকীয়তায় অকারণে শুধু ক্লান্তি ছড়ায়।
আমার স্বপ্নেরা সময়ের অলীক-লতায় জড়িয়ে
ব্যাকুলতায় কুঁকড়ে ওঠে অপেক্ষারত স্মৃতিতে,
মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য থমকে হাঁটে সময়,
বুকে জমা পুরানো কথা, কিছু প্রতিজ্ঞা, প্রিয় কিছু মানুষ, সুখের সময় – প্রায় সবই নিয়তির বাঁকে এসে বদলে যায়। প্রবাহমান সময় নদের স্রোত কখনোই ছেড়ে আসা সময়ের আক্ষেপে কাঁদে না, তবে মানুষ কাঁদে।
কতকাল ধরে ডেকে চলেছে কপোতাক্ষ নদের বাঁক,
হয়তো সে বাঁকে পিছু ফিরে চেয়ে ছিল কেউ
হয়তো কারো সুযোগই হয়নি চাইবার,
হয়তো কারো হাতে দেয়া ছিল জীবনের হার।
মোহ-মায়া, হৃদয়ের টান, জীবনের দায়
কখনো কখনো চলার পথে পাথর হয়ে দাঁড়ায়।
চলতে চলতে কভু সে পাথরে ঠোকর খাই
কভু আহত হই, কভু পঙ্গু হই
কভু আবার বাঁধা পেয়ে কিছু সময় বসে যাই।
কোথায় যে জন্মস্থান, কোন বাঁকে ভীড়েছিল নতুন জাহাজ, কে তা জানে? সর্বক্ষণই এগিয়ে চলি সুউচ্চ চূড়ায়। সূর্যাস্তের মেটে রঙ গায়ে মেখে ঢাল বেয়ে চলি পায়ে পায়ে।
মনের মতো পা মিলুক বা নাই মিলুক – তবু হেঁটে যাই পথে, তবু খুঁজে ফিরি সুখ, কিছু প্রিয় মানুষের মুখ। স্বার্থপর এ মন, জানে কেউ নয় যে আপন
সকল ক্লান্তির পথে অবসর পেতে,
হায়! পিছুটান আমায় ছাড়ে না একা ভূবন বিদায়ী হতে।

, ,

Post navigation

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *